আমিনুল ইসলাম ও তাঁর চিত্রজগৎ

রবিউল হুসাইন

বাংলাদেশের চিত্রশিল্প-জগতের প্রথম সারির একজন পরিপূর্ণ আধুনিক শিল্পী, দেয়ালচিত্রী, শিক্ষক এবং শিল্প-লেখক হচ্ছেন চুয়াত্তর বছর বয়সী চিরতরুণ আমিনুল ইসলাম। আজ থেকে ৫২ বছর আগে তিনি চারুশিল্প ইনস্টিটিউট থেকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করে এখন নিজেই একটি ইনস্টিটিউশনে পরিণত হয়েছেন। এদেশের আধুনিক চিত্রশিল্পের বিকাশ, প্রচার, প্রয়োজনীয়তা এবং প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তিনি একজন অন্যতম কাণ্ডারী। চিত্রশিল্পসৃষ্টিতে যেমন তাঁর অপরিসীম অবদান তেমনি এর শিক্ষাবিস্তারেও তিনি অগ্রগণ্য হয়ে রইবেন।

সম্প্রতি ধানমন্ডির শিল্পাঙ্গন চিত্রশালায় শিল্পী-শিক্ষক আমিনুল ইসলামের ‘ফিরে দেখা’ শীর্ষক সব কাজ মিলিয়ে ভূতাপেক্ষী একটি একক চিত্রপ্রদর্শনী শুরু হয়েছে। সেই ১৯৫০ সালে আঁকা নিজের প্রতিকৃতি থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ে আঁকা ছবিও স্থান পেয়েছে। সব মিলে শিল্পীর প্রথম থেকে ধাপে ধাপে উত্তরণের ও বিভিন্ন স্তরের ছবি-নির্মাণের চমকপ্রদ সাক্ষাৎ পাওয়া যায়। দেশ ও বিদেশে শিক্ষাপ্রাপ্ত এই শিল্পী শিল্প-বিষয়ে অগ্রগামী ও প্রগতিশীল   চিন্তাভাবনা থেকে কখনো নিজেকে বিচ্যুত রাখেননি। সমসাময়িক বা খাঁটি শিল্পসচেতনতায় নিজেকে সবসময়ে জড়িয়ে রেখেছেন। দৈশিক শিল্প-ঐতিহ্যকে তিনি তাঁর শিল্পে কখনো প্রধান অনুষঙ্গ করে তোলেননি, বরং সেটিকে পর্যালোচনা বা দৃষ্টিপাতের মধ্যে রাখতে চেয়েছেন।

1529477150208530460_in13mm85hpl7gtk4dqvq0g3s35

১৯৯৪ সালে তাঁর একটি প্রদর্শনীর মর্মকথা ছিল পর্যালোচনা বা দৃষ্টিপাত বা দেখাশোনা। এরপর কল্পনা এবং পরে অভিজ্ঞতা। তিনি তাঁর গভীর অনুসন্ধিৎসাপ্রসূত কল্পনা বা স্বপ্নকে নিয়ে অভিজ্ঞতার ভাণ্ডারকে ঋদ্ধ করেন। আঁদ্রে মারলোর সেই কথা গৌরবময় ঐতিহ্য অগ্রযাত্রার উত্তরণে বাধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শিল্পীর সৃষ্টকর্মে  তাই সবসময় বৈশ্বিক, আন্তর্জাতিক এবং সমসাময়িক শিল্পশৈলী এবং শিল্পরুচি ও ভাবনা-দর্শনের প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যায়। এই প্রদর্শনীতে একজন শিল্পীর তাঁর নিজের শিল্পচেতনা অনুযায়ী ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠা বা হয়ে ওঠার পরম্পরাকে প্রত্যক্ষ করা যায়। সেই ১৯৫৩-৫৬ সালে ইতালির ফ্লোরেন্সে শিল্পে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন, সেইকালের ইউরোপীয় শিল্পধারায় প্রভাবান্বিত তাঁর শিল্পীজীবনের প্রাথমিক পর্যায়ের বেশকিছু চিত্রাবলি যেমন এই প্রদর্শনীতে অবলোকন করা যায়, পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে সেই মূর্ত বা আধা-বাস্তবধর্মী শৈলী থেকে ধীরে ধীরে পুরোপুরি বিমূর্ত জগতে মনোনিবেশ করার নিদর্শনও দেখা যায়। দেশের একজন প্রধান শিল্পীর এইরকম শিল্প-বিবর্তন প্রত্যক্ষ করা সবার জন্যে বেশ আনন্দদায়ক শিল্প-অভিজ্ঞতা।

ষাটের এবং সত্তরের দশকে শিল্পী বিমূর্ত ছবির অসীম জগতে পুরোপুরি নিয়োজিত হন। সেই শিল্পশৈলীটি শিল্পীর প্রধান বাহন হিসেবে পরিগণিত ও প্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁর বলিষ্ঠ ড্রয়িং করার ক্ষমতা, ছবি-গঠনে নিত্যনতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা-প্রবণতা ও বিষয়ের ভিন্নতাসহ বিভিন্ন রঙের নান্দনিক সমারোহ করার শিল্পশক্তি এই বিমূর্ত রীতির ছবি-রচনাতেও বাঙময় হয়ে দেখা দেয়। এর মধ্যে তিনি ’৮০ সালের দিকে কোলাজ রীতিতে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য ও চমকপ্রদ ছবি রচনা করেন। সেইসব ছবির বেশ কয়েকটি বর্তমান প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে। কোলাজে সাধারণত কাগজ, কাপড়, কাঠ, ধাতুর পাতসহ বহু কিছু ছবির মধ্যে শিল্পীর ইচ্ছামতো সরাসরি সংযোজন করা হয় বিষয়ের মূলভাব-অনুযায়ী। এইরকম তিনি করেছেন বিভিন্ন রঙিন ম্যাগাজিনের ছবি নিয়ে পরিপূর্ণ স্বাদের ছবি, যেগুলো সেইসময়ে চিত্রশিল্প-জগতে বেশ আলোড়ন তুলেছিল। এই ধাঁচের দুটি ছবি প্রদর্শনীতে জায়গা পেয়েছে। তবে সেইসময়ে উল্লেখযোগ্য যে অভিনব পদ্ধতি নিয়ে কোলাজ ছবি তিনি নির্মাণ করেছিলেন সেটি ছিল কাচের আয়নার বর্গাকৃতি আর কিছু বৃত্তাকারে করা নিদর্শন, যা বাংলাদেশের এই কৌশলে কৃত শিল্পসৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য হয়ে আছে।

আয়নার বিচূর্ণতার ভেতর দিয়ে দর্শকের নিজের প্রতিকৃতি ভেঙেচুরে অন্য একটি মাত্রায় পৌঁছে যায়, যা মানুষের অবচেতন-জগতের সন্ধানে অজানা এক যাত্রা – এইরকম দর্শনগত অনুভবের জন্ম দেয়। ছবিতে তিনি নিজের বেশ কয়েকটি প্রতিকৃতির সঙ্গে এক্স-রে প্লেটের মধ্যে আত্ম-করোটির ছবিটি মাঝখানে রেখে চারিদিকে কঠিন জ্যামিতির অনুশাসনে ত্রিভুজ আকারের স্থাপত্যগুণান্বিত আয়োজনে মানুষের মৃত্যু, একাকিত্ব, অসহায়ত্ব, কারণহীন যাপিত জীবনের মূল্যহীনতা ইত্যাদি নেতিবাচক ধারণাসমূহের উজ্জ্বল প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। এখানে উল্লেখ করা যায় যে, প্রদর্শনীতে স্থান-পাওয়া ছবিগুলো তাঁর নিজস্ব সংগ্রহের এবং পঞ্চাশ বছরের এই সংগ্রহ।

কোলাজ রীতির শিল্প রচনার সঙ্গে শিল্পী আরেকটি শিল্পমাধ্যমে কাজ করে বাংলাদেশের সুকুমার শিল্পে অপরিসীম অবদান রেখেছেন, সেটি হচ্ছে ম্যুরাল বা দেয়ালচিত্র। পোড়ামাটির বদলে তিনি রঙিন মোজাইক ব্যবহার করেছেন ছোট ছোট একক নিয়ে। মতিঝিলের জনতা ব্যাংক এবং ওসমানী হলের গায়ে দেয়ালচিত্র দুটি তাঁর খুব উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত এবং তা বাংলাদেশের দেয়ালচিত্রশিল্পের ইতিহাসেও। ১৯৫২ সালের ভাষা-আন্দোলনে সর্বস্তরের মানুষ প্রতিবাদমুখর হয়ে রুখে দাঁড়িয়েছিল, শিল্পী আমিনুল ইসলাম তাঁদের মধ্যে একজন। তিনি তাঁর ছবিসৃষ্টির মাধ্যমে সেই আরাধ্য কাজটি করেছিলেন অনেক শিল্পীর সঙ্গে।

1529478552793145012_in13mm85hpl7gtk4dqvq0g3s35

 শিল্পী একজন সামাজিক জীব, তাঁর অস্তিত্বের মূল্যমান-বহতা সামাজিক বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে গড়ে ওঠে, যা খুবই স্বাভাবিক। তিনি একসময়ে বলেছিলেন যা এখনো সত্য এবং সঠিক বলে বিবেচিত হতে পারে তাঁর ছবির মূল্যায়নের সঙ্গে নিজের শিল্পীসত্তা-নিরূপণে। তিনি নিজেকে একজন শিল্পী বলতে দ্বিধান্বিত, যেহেতু প্রতি মুহূর্তে তিনি অনুভব করেন তাঁর গড়ে ওঠাকে। কথাটি সব খাঁটি ও সৎ শিল্পীর জীবন ও তাঁর সৃষ্টির বেলায় খাটে। শিল্পসৃষ্টির সময়ে কাঠামো, কৌশল বা রীতি, গঠন বা গড়ন, রেখা, গতিবিধি, ছন্দ, বুনুনি, রং বা বর্ণের যোগসূত্র বা সম্পর্ক এবং সর্বোপরি সবমিলে একীভূত রূপ ও বিষয়ের মর্মমূলে একটি নান্দনিকতায় পৌঁছে একজন শিল্পী নিজেকে তাঁর কাজের ভেতর দিয়ে সত্যপ্রকাশে সমর্থন হন। এই ধারাবাহিকতা বা পরম্পরা মানব-মানবীর জাগতিক জন্ম-ক্রিয়ার মতোই যেখানে রহস্য, সূক্ষ্মবোধ, আবেগ, বিভিন্নতা-যাবতীয় আচার-পদ্ধতি চিরকালীন সত্যের মতো বিদ্যমান। এই শিল্পযাত্রা একটি অজানা প্রান্তর থেকে শুরু হয় এবং শেষ হয় এক জ্ঞাত-অভিজ্ঞতায়। তবু শিল্প সবসময়ে অজানা, অচেনা একজন আগন্তুকের মতো – বারবার তাকে কাজ এবং চর্চিত সত্তার মাধ্যমে চিনে নিতে হয়। যে-পরিবেশে শিল্পী সৃষ্টিকর্মে নিয়োজিত, তার প্রভাব সেটির ওপর বিস্তার করবেই, সেইসঙ্গে নিজের অবচেতন মনের আদিমতা এবং অজ্ঞাত অনুভবাবলি। একই সময়, কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন দেশ, তাই ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশ, ভিন্ন ভিন্ন চেতন ও অবচেতনতার জগতে এক-একজন শিল্পী বাস করেন এবং সেইমতো তাঁদের ছবি জন্মলাভ করে। শিল্পী আমিনুল ইসলাম তাঁর দীর্ঘ শিল্পীজীবনে এইরূপ নানা অভিজ্ঞতায় লালিত হয়েছেন এবং আজ বহু শ্রম, সময়, ধৈর্য, কষ্ট, বেদনা পেশা এবং ব্যক্তিগত জীবনের দুটোতেই সয়ে সয়ে এই ঈর্ষাজাগানিয়া জায়গায় পৌঁছেছেন ও বাংলাদেশের চিত্রশিল্প-জগতে একটি স্থায়ী আসনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তাঁর এই প্রদর্শনী এই দেশের ধারাবাহিক ছবির ইতিহাস এ-কথা বললে অত্যুক্তি হবে না।

আমাদের চিত্রশিল্প-জগতে, শুধু চিত্রশিল্পে নয় প্রায় সব শিল্পমাধ্যমে দেখা যায় একটি অস্বস্তিকর যোগসূত্রের অবস্থান, যেটি হচ্ছে আধুনিকতার সঙ্গে ঐতিহ্যের, ক্রমোন্নতির সঙ্গে সংরক্ষণের, বাণিজ্যের সঙ্গে শিল্পের, বৈশ্বিকতার সঙ্গে আঞ্চলিকতার সংঘর্ষ। কিন্তু এগুলোকে নির্দিষ্ট করে দ্বিধাবিভক্ত করা যায় না, তাহলে তা আরো জটিল পর্যায়ে গিয়ে একজায়গায় স্থির হয়ে থাকার আশঙ্কায় পর্যবসিত হয়। আমাদের মতো একদা কলোনিশাসিত রাজনীতি-অর্থনীতির কবলে পড়া দেশ নিজের পথে কোনোদিন চলতে পারেনি, যেহেতু দেশটি বহুদিন পরাধীনতার নাগপাশে জড়িয়ে ছিল। বিজ্ঞানের অগ্রগামিতা যা ইউরোপীয় দেশে দেখা গেল, সঙ্গে রেনেসাঁ বা পুনর্জাগরণী ধর্মের বাঁধন ছেড়ে মানবিক মূল্যবোধের প্রতিষ্ঠা – এইসবের কারণে ইউরোপ বা পশ্চিমি সভ্যতায় আধুনিকতার গোড়াপত্তন হয়। কলোনি-ছুট প্রায় দেড়শ দেশ একে একে স্বাধীনতা লাভ করে এবং সেইসব দেশের বহমান দৈশিক শিল্প-ঐতিহ্য, জীবনযাপনপদ্ধতি, রাজনৈতিক-সামাজিক-অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে আধুনিকতার টানাপোড়েন শুরু হয় এবং এখন পর্যন্ত সেগুলো আধুনিকতা, উত্তর-আধুনিকতা, প্রাচ্যনীতি ইত্যাদি নামধারী চিন্তাস্রোতে প্রবাহিত হচ্ছে। সব মিলে একটি যৌগিক মিশ্র এবং মিথস্ক্রিয়ার সূত্রপাত হয়েছে। হার্বার্ট রিড যেমন বলেছেন, শেষ পর্যন্ত আধুনিক চিত্রশিল্প চারটি অধ্যায়ের মাধ্যমে চর্চিত হতে থাকবে – বাস্তববাদ, অভিব্যক্তিবাদ, ঘনত্ববাদ আর অতিবাস্তববাদ – এর সঙ্গে আরেকটি বিষয় যে যোগ হবে, তা তিনি ভেবে দেখেননি, সেটি হচ্ছে লোকশিল্পের ঐতিহ্যবাহী প্রথাগত ধারা। তৃতীয় বিশ্বের শিল্পে তাই পশ্চিমি আধুনিকতার সঙ্গে দৈশিক ঐতিহ্যের মিশেলে যে-শিল্প হয়, তার মান ও মাত্রা বেশ আদরণীয় ও গ্রহণীয় এবং তা শিল্পবোদ্ধা আর শিল্পীদের কাছে একটি প্রতিষ্ঠিত ও স্বীকৃত সত্য বলে বিবেচিত হচ্ছে, যেহেতু তার মধ্যে দেশের মূলধারা বা শেকড় খুঁজে পাওয়া যায়। শিল্পে এইরকম দেশী বা বিদেশী প্রভাব নিয়ে বহু শিল্পী তাঁদের ছবি সৃষ্টি করে চলেছেন এবং নিজেদের সৃষ্টিক্ষমতা-অনুযায়ী নিজস্ব স্বাতন্ত্র্যে চিহ্নিত হয়ে আছেন। প্রায় আধুনিক শিল্পীর বেলায় কথাটি বলা চলে। আবার কেউ কেউ আছেন যাঁরা ওই পাঁচমিশেলি গুরচণ্ডালী পথের পথিক নন তাঁরা বিশুদ্ধ শিল্পের পথের যাত্রী হয়ে পথ চলতে চান সবসময়ে – হয় বৈশ্বিক আধুনিকতা অথবা দৈশিক লোকজ ঐতিহ্যবাহী প্রথানুগততা। শিল্পী আমিনুল ইসলাম প্রথম পক্ষের বিশুদ্ধ শিল্পধারার অনুসারী হয়ে নিজের বিশ্বাসের ওপর আস্থা নিয়ে শিল্পের দুর্গম পথে চলতে চলতে এতদূর এসে পৌঁছেছেন। কিছু শিল্পী আছেন, তাঁরা কোনো প্রভাবের দ্বারা প্রভাবান্বিত হতে চান না, তা সে ঐতিহ্যই হোক আর দেশের শেকড়ই হোক, সেখানে শিল্পী নিজের বিশ্বাসের সহস্রমুখী শিল্প উৎসের প্রতি নির্ভর করেন এবং নিজেকে নিজের দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে শিল্পসৃষ্টি করতে ভালোবাসেন। শিল্পী আমিনুল ইসলামও তেমনি শিল্পদর্শনের অনুসারী। শিল্পী পরিতোষ সেন এটিকে তাঁর একটি লেখায় সহস্রমুখী দূরদৃষ্টি বা Polyvalent Vision বলে আখ্যায়িত করেছেন। সেই হিসেবে শিল্পী আমিনুল ইসলামকে সেই দূরদৃষ্টির শিল্পী বলে আমরা চিহ্নিত করতে পারি। শিল্পী ভীষণভাবে রবিঠাকুর এবং পাবলো পিকাসোর ভক্ত ও অনুসারী। পিকাসো একসময়ে বলেছেন, ‘না, পেইন্টিং বা ছবিসৃষ্টি আভ্যন্তরীণ অলংকরণশিল্প নয়, নয় কোনো অন্দরমহলের সৌন্দর্যকরণক্রিয়া। এটি যুদ্ধের একটি অস্ত্র, শত্রুকে আক্রমণ করার জন্যে এবং নিজের আত্মরক্ষার জন্যে।’ রবীন্দ্রনাথ আবার অন্য সুরে – শিল্পের সামগ্রিক অন্তর্নিহিত ঐকান্তিক মর্ম-অনুভূতির সৃষ্টিশীলতা মনে কোনো প্রশ্ন তোলে না, কোনো অর্থ বা মূল্যের জন্যে। আবার অর্থহীনতা দিয়ে ভারাক্রান্ত করে না। কারণ তা সর্বোপরি যেকোনো অর্থের বা ব্যাখ্যার ঊর্ধ্বে। শিল্পী আমিনুল ইসলামের শিল্পসৃষ্টিও তেমনি ভাবধারায় অবগাহিত।

 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s